admin
আগস্ট ২৩, ২০২০
  • No Comments

    চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আওতাধীন সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রদল কমিটি, কে হচ্ছেন সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রদলের কান্ডারী?

    দীর্ঘ জটিলতা, আলোচনা সমালোচনার পর সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রদলের কমিটির বাতাস বইছে। ইতিপূর্বে কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও জেলা সভাপতি -সেক্রেটারি অদৃশ্য কারণে কমিটি করতে পারেন নি। এবার কি পারবেন?

    ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ মনে করেন, ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারুণ্যের অহংকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ছাত্রদল তার হারানো ঐতিহ্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

    তাহলে কে হতে যাচ্ছেন সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রদলের কান্ডারী?

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক-সদস্য সচিব পদের জন্য ফরম জমা দিয়েছেন প্রায় অর্ধশত বিভিন্ন পর্যায়ের ছাত্রদল নেতা। তন্মধ্যে আহবায়ক পদে আবদুল্লাহ আল নোমান লিংকন, আরিফ উদ্দিন রিয়াদ, সাইফুল আমীন, তৌহিদুর রহমান টুটুল, সুজা উদ-দৌলা সজিব, আজিম উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।
    সদস্য সচিব পদে আকরাম খান মুকুল, সাখাওয়াত হোসেন শাহীন, রেজাউল করিম নাইম, দেলোয়ার হোসেন, নুর উদ্দিন, নুর নবী হৃদয়, ইকবাল হোসেন পপেল, সাইফুর রহমান বাদশা প্রমুখ।

    এদের অনেকের বিরুদ্ধে আছে নানান রকমের অভিযোগ। আবদুল্লাহ আল নোমান লিংকন সন্দ্বীপে একটি ঔষধ কোম্পানীতে চাকরি করেন বলে জানিয়েছেন তার সহকর্মী সহ বন্ধুমহল, থাকেন নিজ বাড়ি মাইটভাঙ্গা।
    আরিফ উদ্দিন রিয়াদ পড়াশুনা করেন চট্টগ্রামের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে, সেই সুবাদে থাকেন চট্টগ্রামস্থ পৈত্রিক বাড়িতে, জেলা ছাত্রদল সভাপতি জাহিদুল আফছার জুয়েলের আস্থাভাজন হিসেবে কমিটিতে স্থান করে নিতে চান সারিকাইতের এ নেতা।
    টুটুল চাকরী করেন ব্র্যাক ব্যাংক মাদামবিবির হাট শাখায়, দীর্ঘদিন যাবত থাকেন চট্টগ্রাম, ব্যক্তি জীবনে বিবাহিত।
    সাইফুল আমীন দীর্ঘদিন গাছুয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, বাবা মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা সেনাবাহিনীর (অব.) ক্যাপ্টেন। তার বিরুদ্ধেও বিয়ের অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ইউপি মেম্বার, চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় কাজীর সাথে যোগাযোগ করেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় নি, স্থায়ীভাবে বসবাস করেন গাছুয়াস্থ নিজ বাড়িতে।
    সুজা উদ-দৌলা সজীব এক এর ভেতর অধিক (বহুরূপী), কখনো সাদমান সামি, কখনো সজীব এএনপি, কখনো পাইলট সজীব সহ বিভিন্ন নামে পরিচিত, তাকে ফেসবুক ভিত্তিক রাজনীতিবীদ মনে করেন তার গুরু আনিস আকতার টিটু, সন্দ্বীপ উপজেলা রাজনীতিতে সজীবকে ফেসবুক দলের সভাপতি করার দাবী জানান কেউ কেউ, আহবায়ক হবার জন্য মরিয়া সজিবও, তার বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি, ইয়াবা ব্যবসা, নারী কেলেঙ্কারি সহ রয়েছে একাধিক অভিযোগ, নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার মগধরা ইউনিয়নের এক ছাত্রনেতা বলেন এক মেয়ের সাথে সম্পর্কের একপর্যায়ে মেয়ে পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তাকে বিয়েতে বাধ্য করতে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করান, ফলে বিয়ে করতে বাধ্য হন সজীব, পরিবারসূত্রে জানা যায় সজীব মাদকাসক্ত হয়ে স্ত্রীর উপর নির্যাতনের অভিযোগে শ্বশুর পক্ষ তাদের মেয়েকে নিয়ে যান, শোনা যায় তার নামে নারী নির্যাতনের মামলাও রয়েছে, কখনো থাকেন ঢাকায়, কখনো চট্টগ্রামে আবার ফেসবুক পরিচয়ের সুবাদে ভিন্ন ভিন্ন জেলায়, চলেন আওয়ামীলীগের সাথে আঁতাত করে, ঘুরে ঘুরে নেতাদের সাথে ছবি তুলে তা ফেসবুকে প্রচার করে প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে গোপনে চলে সজীবের অবৈধ কার্যকলাপ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের নেতৃত্বে এযাবতকাল একটি কর্মসূচীতে উপস্থিত না থাকলেও তার প্রতিদ্বন্দ্বী রা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন ঈদুল আযহার পরদিন থেকেই এখন পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করছেন সুযোগ সন্ধানী সুজা উদ-দৌলা সজীব, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে যেকোন সময় ভাগ বসাতে পারেন কমিটিতে।
    একই ইউনিয়নের শহিদুল ইসলাম স্কুল জীবনে করতেন ছাত্রশিবির, জানা যায় ছিলেন স্কুল শাখার প্রচার সম্পাদক, ফেসবুকে জামাত-শিবিরের নেতৃবৃন্দের সাথে বিভিন্ন সময়ের অন্তরঙ্গ ছবি ভাইরাল হয়, প্রবাস থেকে দেশে ফিরে এসে পদের আশায় আবার রাজনীতিতে জড়িত হন।

    সদস্য সচিব প্রার্থী আকরাম খান মুকুল সরকারি এবি কলেজ ছাত্রদলের বর্তমান আহবায়ক, রাজনৈতিক মামলায় জেল খেটেছেন।
    শাহীনের জায়গা হয় নি তার নিজ গ্রুপের প্যানেলে, তিনি মনে করেন ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে তাকে।
    দেলোয়ার নিজেকে উপজেলা পর্যায়ে নিতে চান না, ইউনিয়নেই সন্তুষ্ট থাকতে চান।
    নুর উদ্দিন ব্যক্তিগত জীবনে প্রবাসী, দীর্ঘ প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে এসে তার আত্নীয় জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আনিস আকতার টিটুর আশ্বাসে আবার সক্রিয় হয়েছেন রাজনীতি তে, উপজেলা রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতা নেই বললেই চলে।
    রেজাউল করিম নাইম ৫ই জানুয়ারি কাজীর দেউরী পার্টি অফিসের সামনে থেকে আসলাম চৌধুরীর সাথে গ্রেফতার হয়ে জেল খাটেন, নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচী তে অংশগ্রহণ করে তিনিও ভাল অবস্থানে আছেন।
    ইকবাল হোসেন পপেল অপেক্ষাকৃত জুনিয়র হলেও রাজনীতিতে সক্রিয়, বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল করলেও বিভিন্ন সময়ে তার ফেসবুক টাইমলাইনে জামাত-শিবির প্রেম সহকর্মীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।
    নুর নবী হৃদয় ত্যাগী কর্মী হিসেবে পরিচিত, সহপাঠীদের অভিযোগ এসএসসি পাশ করেন নি নুর নবী, যে সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন তা সঠিক নয় বলে অনেকে মনে করেন।
    বাদশা ছাত্রদল করেন নি কোনদিন, বর্তমানে স্থানীয় গুপ্তছড়া বাজারে স্যানেটারী মালের দোকান করেন, আনিস আকতার টিটুর অনুসারী হিসেবে পদে আসতে চান, প্রশ্ন আসে পদ পেলে দোকান করবেন নাকি ছাত্রদল করবেন!

    এসকল অভিযোগের তীরে জর্জরিত সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রদল। এবিষয়ে বিভিন্ন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেউ কেউ বলেন দীর্ঘ সময় ইউনিয়ন স্কুল কমিটি না হওয়ায় ছাত্রদলের এই দুরবস্থা। সর্বশেষ উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি নিঝুম খান ও সেক্রেটারি আনিস আকতার টিটু এ দায় এড়াতে পারেন না।

    কেউ কেউ আরো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিঝুম নিজেই তো ২০০৫ সাল থেকে চাকুরীজীবি। স্থানীয় উত্তর সন্দ্বীপ কলেজের চাকরিতে জয়েন করার ৬ বছর পর ছাত্রদল সভাপতি হয়ে সে ছাত্রদল গোছাবে না তার সংসার আর রবি’র ব্যবসা গোছাবে। এ অবস্থায় উত্তর জেলা ছাত্রদল সভাপতি জাহিদুল আফছার জুয়েল ও সেক্রেটারি মনিরুল আলম জনি কিভাবে কেন্দ্রীয় টিমের সাথে সমন্বয় করে সন্দ্বীপ উপজেলা কমিটি গঠন করেন তা এখন দেখার বিষয়। তারা কি অধিকতর যোগ্য, দীর্ঘ সময় জেলা উপজেলায় তাদের নেতৃত্বে শ্রম দেয়া কর্মীদের প্রাধান্য দেবেন? নাকি বিশেষ কোন কারণে অভিযোগে জর্জরিত, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে এমন কারো পক্ষ নেবেন?
    এ সকল প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে কমিটি ঘোষণা করা পর্যন্ত।