Header Border

ঢাকা, বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) ২৮°সে

জামালপুরের উজ্জ্বল নক্ষত্রের করোনা নিয়ে লেখা..

করোনাযোদ্ধাদের_সালাম
  মোঃ আবুল কালাম আজাদ

বিশ্বব্যাপী করোনাযুদ্ধে সামনের কাতারের সেনানী হচ্ছে ডাক্তার, নার্স এবং চিকিৎসা ও করোনা টেস্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত স্বাস্থ্য বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সন্দেহজনক ব্যক্তির করোনা পরীক্ষা, হোম কোয়ারেন্টাইন বা ঘরবন্দী করা, আলাদা করে রাখা বা আইসোলেশন, শনাক্তকৃত রোগীর ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা- সকলই স্বাস্থ্য বিভাগীয় কাজ। এর জন্য প্রয়োজন চিকিৎসক, নার্স, সরঞ্জাম, হাসপাতাল ইত্যাদি। আমাদের মনে রাখতে হবে, পৃথিবীর কোন দেশই করোনার মতো মহামারীর জন্য প্রস্তুত থাকে না। নিজ সামর্থ্যরে মধ্যে প্রস্তুতি নেয়া এবং পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে যদি আমরা খেয়াল করি, দেখব প্রথমে আমাদের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে করোনা শনাক্তের প্রাথমিক কাজ শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে তা সম্প্রসারিত হয়ে ২২টি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। জেলা পর্যায়ে এটি সম্প্রসারণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অনেকে বলেন, প্রস্তুতির জন্য আমরা যে সময় পেয়েছি, তাতে ইতোমধ্যে জেলা পর্যায়ে পরীক্ষার সক্ষমতা অর্জন করা উচিত ছিল। এটি মনে রাখা দরকার, স্বাস্থ্য বিভাগীয় কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে দায়িত্ববোধ কারও চেয়ে কম থাকার কোন কারণ নেই। নানা প্রকার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সমুদয় সক্ষমতা দিয়েই তারা কাজ করছেন। আমরা সম্প্রতি সিলেটের চিকিৎসক ডা. মঈন উদ্দিনের দেশপ্রেম, মানবতাবোধ এবং কাজের প্রতি একাগ্রতা দেখেছি।

মিডিয়াতে আমরা দেখেছি, অনেক চিকিৎসক নিজ দায়িত্বের বাইরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন। অনেকের নামই বলা যায়, স্থানাভাবে নাম দেয়া থেকে বিরত রইলাম। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, অধিকাংশ স্বাস্থ্যকর্মীই ডা. মঈনের মতো নিজ দায়িত্বের প্রতি প্রচণ্ড নিষ্ঠাবান এবং আন্তরিক। এর বিপরীতে দু-চারটি ব্যত্যয় থাকতে পারে কিন্তু সে বিষয়কেই অত্যধিক গুরুত্ব দিয়ে ভাবা এবং সব চিকিৎসক, নার্সকে সরল সমীকরণে কর্তব্যবিমুখ বলে চিহ্নিত করার কারণ নেই।

করোনার সহযোদ্ধা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের কাজের ধরন ও ব্যাপ্তি পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হয়েছে ও বেড়েছে। কাজের তালিকা যদি দিতে হয়, প্রাথমিকভাবে করোনা সন্দেহভাজনকে ঘরবন্দী রাখা, লাল পতাকা উত্তোলন, ঘরবন্দীকে মনিটর করা, শনাক্তকৃত রোগীকে খুঁজে বের করা, সাধারণ মানুষকে অধিক দ্রব্য কেনা থেকে নিবৃত্ত রাখা, বাজারমূল্য ঠিক রাখা, বাজারসহ পথ-ঘাটে একজন থেকে আরেকজনের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, উন্মুক্ত স্থানে বাজার স্থানান্তর, লকডাউন এলাকা থেকে লোকজন বের হতে না দেয়া এবং প্রবেশ না করতে দেয়া, গ্রামমুখী মানুষের স্রোত ও উল্টো স্রোত মোকাবেলা করা, করোনা হাসপাতাল এবং কোয়ারেন্টাইন এলাকা স্থাপনে স্থানীয় বাধা মোকাবেলা, করোনায় মৃত ব্যক্তির সৎকার করা, কর্মহীন ব্যক্তিদের ঘরে ঘরে সরকারী খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া, কতিপয় আত্মসাৎকারীকে আইনের আওতায় আনা- এমন আরও অনেক। সবচেয়ে কঠিন কাজ হচ্ছে, লকডাউন এলাকায় অপ্রয়োজনে বের হওয়া লোকদের ঘরে রাখার ব্যবস্থা করা। প্রয়োজন ছাড়াও বিপুল সংখ্যক লোক চা খাওয়া, আড্ডা দেয়া, ঘরে ভাল লাগে না ইত্যাদি বাহানায় ঘর থেকে বের হচ্ছে। এই ব্যতিক্রমধর্মী কাজগুলোর জন্য নিরলস পরিশ্রম করছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী ও আরও অনেকে। প্রধানমন্ত্রীর নিরলস পরিশ্রম, প্রজ্ঞা ও দিকনির্দেশনা তাদের সাহস ও মনোবল বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।

পুলিশ এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও নিজ কাজের বাইরে করোনা মোকাবেলায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। নিজেদের বেতনের টাকার একাংশ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেয়া, করোনা আক্রান্ত হওয়ার প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা, ব্যস্ততম পেশা থেকে বেকার হয়ে যাওয়া মানুষের ঘরে নিজস্ব তহবিল থেকে খাবার পৌঁছে দেয়া, চিকিৎসকদের যানবাহন সুবিধা প্রদান, করোনা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লিফলেট বিতরণ, হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, মোবাইল শপ চালু করা, রাতের আঁধারে ত্রাণ নিয়ে সাধারণ মানুষের ঘরে সেনাবাহিনী, গরিবদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করল বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী চীন থেকে নিজস্ব তহবিলে আনল করোনাসামগ্রী, বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে খুলনার ডাক্তার মাসুদকে ঢাকায় প্রেরণ ইত্যাদি কাজ তারা নিষ্ঠার সঙ্গে করেছেন।

করোনাযুদ্ধের সময় আমাদের যা আছেÑ হাসপাতাল, পরীক্ষার সুবিধা, ডাক্তার, নার্স, অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী, ভেন্টিলেটর, পিপিই ইত্যাদি এগুলোই আমাদের শক্তি। ভেন্টিলেটর, পিপিই, করোনা চিকিৎসার হাসপাতাল ইত্যাদি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু আমরা কী বাড়াতে পারব ডাক্তার-নার্স? প্রাইভেট সেক্টরের ডাক্তার-নার্সরা যোগ দিতে পারেন। অনেক ডাক্তার স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে এগিয়েও এসেছেন। অবসরপ্রাপ্ত নার্সদের কাজে লাগানোর বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। এই নিয়েই আমাদের শক্তি। আবার প্রতিনিয়ত বেশ কিছু ডাক্তার-নার্স নিজেরাই আক্রান্ত হয়ে কোয়ারেন্টাইনে চলে যাচ্ছেন। মনে রাখতে হবে, পৃথিবীর অনেক দেশেই ২০-৪০ ভাগ ডাক্তার-নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়ে গেছেন। পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি এসেছে অনেক নতুন কাজ। সবাই ছুটিতে থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

সংবাদমাধ্যমের বিপুলসংখ্যক কর্মী করোনাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে কাজ করে যাচ্ছেন। বেশ কয়েকটি চ্যানেলের অনেক কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন। যখন সবাইকে বাধ্যতামূলক ঘরে থাকতে বলা হয়েছে, তখন স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলাকর্মী, মিডিয়া, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কিছু জরুরী বিভাগ করোনার বিপদ মাথায় নিয়েও আমাদের নিরাপদ রাখার কাজ করছেন।

আমরা সবাই বলছি, এটা একটা যুদ্ধ। আর যুদ্ধক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব যারা পালন করছেন, তাদের সহযোগিতা করা সবার কর্তব্য। ওপরে যে বিভাগগুলোর নাম করা হয়েছে তাদের সবার কাজ সকল সময় প্রশংসারযোগ্য নাও হতে পারে। তবে বিচ্ছিন্ন কোন কাজকে সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করার সরল সমীকরণ করার সময় এটা নয়। আমরা দুষ্টের দম

Print Friendly, PDF & Email

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

কক্সবাজারে র্যাবের হাতে ইয়াবাসহ নারী আটক
করোনায় আরও ৪০ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩৮৬৮
মাদারগঞ্জের চরপাকেরদহ ইউনিয়ন পরিদর্শন করলেন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি
বাঁকখালী নদী থেকে ফুটবল তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে এক কিশোরের করুন মৃত্য দীর্ণ ৬ ঘন্টা পর লাশ উদ্বার !!
অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ
চির নিদ্রায় শায়িত হলেন রত্নাগর্ভা মা

আরও খবর