Header Border

ঢাকা, শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) ২৯°সে

কবির কাছে খোলা চিঠি

কবির কাছে খোলা চিঠি

ইয়াসমীন আরা মমতাজ

গ্রাউন্ড সার্ভিস সুপারভাইজার
গ্রাহকসেবা বিভাগ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস্

প্রিয় সুহ্নদ,
কেমন আছো? এই অস্থির পৃথিবীতে কেমন আছো কথাটা জিজ্ঞেস করা কতটুকু বাঞ্চনীয় হবে তা আমার জানা নেই। কিন্তু চিঠির তো একটা নিজস্ব ভাষা, স্বকীয়তা বা ধারা(ম‍্যানার) আছে। তারপরও জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে কতটুকু ভাল আছো আর থাকলে কিভাবেই বা আছো দয়া করে ভাল থাকার মন্ত্রটা আমাকে শিখিয়ে দিবে?

তুমি তো জানো তোমার মতো আমার মনটাও সুপারসনিক জেট বিমানের মতো দ্রুতগতিতে যেতে পারে দেশ থেকে মহাদেশে, সাগর থেকে মহাসাগরে। প্রকৃতি থেকে অপ্রকৃতির দিকে, পূর্ণতা থেকে শুন‍্যতার দিকে আবার বিপরীতগামীও হয় মাঝে মাঝে। তবে এসব বৈপরীত্য নিয়ে আমার কোনো রাগ ক্ষোভ দুঃখ অভিমান অনুযোগ নেই। তুমি তো জানো আমি মানবতার ফেরিওয়ালা।

তুমি তো জানো সমগ্র পৃথিবীতে কী তান্ডবই না চলছে। তোমার কি মনে হয় না আমরা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভিতর দিয়ে যাচ্ছি। মানবতা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে, অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে,অপধর্মের বিরুদ্ধে, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হচ্ছে আমাদের প্রতিনিয়ত। মানুষ যেমন মানুষকে সহ‍্য করতে পাচ্ছে না তেমনি প্রকৃতিও মানুষের বিরুদ্ধাচরণ করছে। আমি তুমি বা আমরা কখনও কি এই অস্থির উত্তপ্ত ম্লান পৃথিবী চেয়েছিলাম?

আমি জানিনা আমার এই লিখাটা তোমার বরাবর পৌঁছাবে কি না। তুমি তো দেশ থেকে দেশান্তরে ঘুরে বেড়াও। আমার কি সাধ‍্য আছে তোমার পিছু নেয়ার? তাই তোমাকে লিখতে বসলাম। আমি জানিনা তুমি এই পৃথিবীতে আছো না কালের যাত্রা অতিক্রম করে মহালোকে চলে গেছো। তুমি চলে গেলেও তো তোমার কীর্তিগুলো,তোমার সৃষ্টগুলো পৃথিবীতে দৃশ্য বা অদৃশ্যভাবে থাকার কথা ছিল। কিন্তু কই আমরা তো তার ফলাফল ভোগ করতে পাচ্ছি না।

তুমি তো ভালো করেই জানো আমি রাজনীতি বা অর্থনীতির চাকা নিয়ে মাথা ঘামাই না। আমি শুধু মানুষের জীবনযাত্রার পারদের উঠানামা পর্যন্তই থাকি। দুঃখ পাই কষ্ট পাই কখনও বিস্মিত হই আবার কখনও সুখের কান্নায় নিজেকে আপ্লুত করি। তোমার কাছে কি মনে হয় জানিনা কিন্তু আমার কাছে মনে হয় মানবতা এখনও শেষ হয়ে যাইনি। হ্নদয় বিগলিত হওয়ার মতো অনেক ঘটনাই ঘটে এবং ঘটছেও এই পৃথিবীতে।

তোমাকে তো বলাই হয়নি, আমি দেহমনে একজন বাংলাদেশী মূলত আমি পৃথিবীরই অধিবাসী। ভীষণ দূর্যোগপূর্ণ একটি সময়ে লিখতে বসছি। সমগ্র বিশ্বের কথা না হয় পরেই বলছি। আমাদের জন‍্যে আমাদের এই ছোট্ট দেশটির জন‍্যে আবার কি তোমার শক্তিশালী কলমটি ধরতে পারো না? পারো না তোমার কলমের ছোঁয়ায় এই ছোট্ট দেশটাকে তথা পৃথিবীটাকে বদলে দিতে??
তুমি নিশ্চয়ই ভাবছো এত কল্পনাবিলাসী হলাম কিভাবে? খবরদার!! তুমি আমাকে কল্পনাবিলাসী বলবে না!! আমি কল্পনার সাগরে নিজেকে ভাসাতে পছন্দ করি না। আমি স্বপ্ন দেখতে ভালবাসি। আমি বাস্তব এবং স্বপ্নের মাঝখানে সেতু বন্ধনের চেষ্টা করি। আমার বিশ্বাস এই স্বপ্নই একদিন মানবতার ঢাল হয়ে দাঁড়াবে। দেখে নিও। আমি তুমি আমরা নিশ্চয়ই এর সুফল ভোগ করতে পারবো।

তোমাকে বলেছিলাম না বিশ্বের কথা একটু বলব। তুমি তো আবার বিস্তারিত পছন্দ করো না, বিরক্ত হও। আমি তোমাকে জর্ডান সুদানের মানবতা লঙ্ঘনের কথা বলতে পারতাম। তোমাকে চীনের কর্ণধার শি জিনপিং,আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রামের কথা কিংবা ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর কথা বলতে পারতাম। কী নিষ্ঠুর খেলাই না মেতে উঠেছে এই বিশ্বটাকে নিয়ে!! কিছু বিশ্বনেতাদের ঔদ্ধ‍্যতপূর্ণ অপসাংস্কৃতিক আচরণের কথা বলতে পারতাম। অন‍্যদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস কিংবা WHO র প্রধান টেড্রোস অ‍্যাডানোম গ্রেব্রিয়াসুস প্রমুখ অসহায় বিশ্বনেতাদের কথা বলতে পারতাম। তাঁদের অসহায়ত্ত্বের কথা বলতে পারতাম।বিশ্বমানবজাতির অসহায়ত্ত্বের কথা বলতে পারতাম। সর্বোপরি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর মানবতার কথা বলতে পারতাম।ইতিহাসের সবচেয়ে সংকটময় পরিস্থিতির ভিতর দিয়ে যাচ্ছে এই প্রিয় পৃথিবীটা। তাই ছোট্ট করে তোমাকে লিখার অবতারণা করা। থাক ওসব কথা। তোমাকে আর বিরক্ত বা বিব্রত করতে চাই না।
সবশেষে বলতে চাই তোমাকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করি কেন জানো? আমার একমাত্র আশ্রয়স্থল তো ওখানটায় তুমি। তুমি তো কঠিন দায়িত্ব নিয়ে বসে আছো। সেই ছোট্টবেলা থেকেই জেনে আসছি তোমার কলমের শক্তি তরবারি থেকেও শক্তিধর। তুমি কবি, তুমি শিল্পী। তুমি সত্য প্রকাশে অবিচল। তুমি সভ‍্যতা নির্মাণের কারিগর। তুমি সত‍্য সুন্দর মঙ্গলময় জীবনের কথা লিখতে পারো। সভ‍্যতাকে মানবতাকে নিয়ে যেতে পারো সাফল্যের শীর্ষ চূড়ায়। তোমার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি।।

ইতি
তোমারই প্রত‍্যাশিত অনুজ

পহেলা সেপ্টেম্বর ২০

Print Friendly, PDF & Email

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

বেপরোয়া ড্রাইভার (কবিতা)